ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
জীবিকার তাগিদে ফিরছে মানুষ চিকেনস নেকের নিরাপত্তা জোরদার করলো ভারত গৃহকর্মীকে মারধর চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে জিডি লাঙ্গলবন্দের বিশ ঘাটে স্নানোৎসবের আয়োজন ঈদযাত্রার সাতদিনে যমুনা সেতুতে দুই লাখ যান পারাপার ঈদের ছুটিতে খাবার কষ্টে ব্যাচেলররা এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার চেয়ারের দায়িত্ব বুঝে নিলেন প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের অগ্রাধিকার সাতদিনে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ৩৪১ চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে গ্রেফতার ৩৯ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়লেও নেই ভোগান্তি বিকল্প রিংবাঁধ সম্পন্ন লোকালয়ে ঢুকছে না পানি ঈদের পর কমেছে সবজি ও মুরগির দাম ভোটের মাধ্যমে সংসদে যেতে চান সারজিস হবিগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষে আহত ২০ গাইবান্ধায় মাদকসহ মহিলা দল নেত্রী গ্রেফতার দক্ষিণ এশিয়ার ইসরায়েল ভারত চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার মায়ের জানাজা শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রয়োজনে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে এনসিপিÑ আতিক মুজাহিদ

হত্যামামলা হচ্ছে চেনে না বাদী, জানে না আসামি

  • আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৪ ১২:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৪ ১২:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন
হত্যামামলা হচ্ছে চেনে না বাদী, জানে না আসামি
* দেড় মাসে হত্যা মামলা হয়েছে ২৫৫টি
* হাসিনাসহ আ’লীগের নেতারা মামলার আসামি
* নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর নেতাদের নামে মামলা হয় থানায় থানায়। তবে এসব মামলার বাদী চেনে না আসামিকে আর আসামীও জানে না, তাদের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে অনেক নিরীহ মানুষ। শুধু তাই নয়, উষ্কানীর অভিযোগে আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত অনেক প্রভাবশালী সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে অনেক পেশাদার নিরীহ সাংবাদিককেও আসামির তালিকায় নাম রয়েছে। নাম রয়েছে কর্মস্থলে না থাকা কিংবা ছুটিতে থাকা অনেক কর্মকর্তারও। যা দেখে রীতিমতো বিজলী চমকানোর মতো অবস্থা এবং মামলাগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফরতরে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হবে। তিনি বলেন, তদন্ত ছাড়া কেউ যেন গ্রেফতার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠন করার প্রত্যাশা আছে আমাদের। পুলিশ বাহিনী কীভাবে ইমেজ ফিরে পায়, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ঘুষ-অনিয়ম রোধে করণীয় কী-সেসব বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সত্যিকার অপরাধীদের বিরুদ্ধেই মামলা হবে। নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটা দেখা হবে। আবার তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যেন না হয়, সেটার কথাও বলা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য মতে, ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলা হচ্ছে বিভিন্ন থানায়। ৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে রাজধানীর থানাগুলোতে হত্যা মামলা হয়েছে ২৫৫টি। অনুসন্ধান বলছে, এসব মামলার বেশিরভাগ এজাহার একই ধরনের। প্রথম ১০ থেকে ২০ জন আসামি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ প্রভাবশালী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। এসব মামলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাদী চেনেন না আসামিকে, আসামিও বাদীর নাম শোনেননি কখনও। গত ২৫ আগস্ট ঢাকার দোহার থানায় হয় তেমনি একটি মামলা। এজাহারে থাকা ঠিকানার সূত্র ধরে আসামির খোঁজ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয় না থাকা অভিযুক্ত ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরেও দোহার যাননি। তিনি বলেন, ব্যবসা করি জীবনভর, সে হিসেবেই সরকারে যেই থাকে তাদের সঙ্গেই আমাদের সখ্যতা থাকে। কিন্তু আমরা কোনো রাজনীতি করি না, কখনও করিও নাই। আমার নামে হত্যা মামলা করা হয়েছে, অথচ গত ১০ বছরে আমি দোহার যাইনি। কেন কিভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আবেদন করব আমাদের যেন এভাবে অপদস্থ না করা হয়। এই শিল্পপতিসহ ১৭৪ জনের নামে মামলার বাদী শাজাহান মাঝি। যাদের অধিকাংশকেই চেনেন না তিনি। তাহলে কেন করলেন মামলা। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, রাজনৈতিক মামলা তাই সবাইকে চেনেন না, নেতারা যাদের নাম দিয়েছে তাদের নামই মামলায় উল্লেখ করেছেন। গেল ২ সেপ্টেম্বর একই ধরনের একটি মামলা হয় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায়। আসামি বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি অভিযুক্তের। এ বিষয়ে বাদী ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এসব মামলায় প্রকৃত দোষীরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা করছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহেদ আজিম। তিনি বলেন, ভিন্ন মত পোষণের জন্যেই যেন কোন মামলা না হয়, এটাই আমরা আশা করি। এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্ত করতে হবে। যে দোষী থাকবে আর যে নির্দোষ সে মামলা থেকে বাদ যাবে।
৯৪ পুলিশের বিরুদ্ধে ঢাকায় ২৮৭ মামলা : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা, লাশগুম ও লাশে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলার ঘটনায় এখন রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮৭টি মামলা হয়েছে। এই সব মামলায় সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত আসামি রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকেই গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে। তবে কর্মস্থলে না থেকে কিংবা ঢাকার বিভাগীয় জোনে কর্মরত না থেকেও শুধু মাত্র নামে নামে মিল থাকায় আসামী হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে নিউ মার্কেট থানায় রুজুকৃত একটি হত্যা মামলায় (মামলা নং-৩) বাদি ২১/০৮/২৪ খ্রিস্টাব্দে রমনা থানার ডিসির নামের সঙ্গে সাবেক ডিসি (ট্রাফিক) ওয়ারীর নামের সঙ্গে মিল থাকায় সংশোধন করে এজাহারভূক্ত করতে আদালত বরাবর আবেদন করেন। মামলার বাদির আবেদনপ্রাপ্ত হয়ে মহামান্য আদালত মামলার জুডিশিয়াল নথিতে এজাহার সংশোধনী আবেদন নথিতে রাখার নির্দেশ দেন।
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে তবুও হত্যা মামলার আসামি : গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভৈরবের জোবায়েদ ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যান বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় ভৈরব এলাকার রসুলপুর এলাকার মনির হোসেন নামে এক যুবক ৯১ জনকে আসামি করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় কয়েকজন প্রবাসীকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসে রয়েছেন। এছাড়া মামলায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়। ভৈরব চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. হমায়ূন কবির গত ১৯ জুন অস্ট্রেলিয়া গেছেন এবং এখনো তিনি ওই দেশেই আছেন। মিনা ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকা প্রবাসী। ইকবাল ও লোকমান অনেকদিন যাবত প্রবাসে রয়েছেন। ৪ আগস্ট তারা দেশে ছিলেন না বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট ভৈরবের জোবায়েদকে আসামিরা অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে হত্যার পর যাত্রাবাড়ী এলাকার কাজলা নামক স্থানে লাশ ফেলে তারা পালিয়ে যায়। তবে আসামিপক্ষের লোকজনের দাবি, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একজন যুবককে অপহরণ করতে ৯১ জন লোকের প্রয়োজন হয় কিনা। প্রবাসীসহ সাংবাদিকদের আসামি করাতেই প্রমাণ হয় মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। মামলার বাদী মনির হোসেন এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় একটি মহলের প্ররোচনায় বাণিজ্য করতেই তিনি মামলাটি করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমনকি মামলার এজাহারে নিহত জোবায়েদের বাবা ও মায়ের নাম বা কোনো ঠিকানা লেখা হয়নি। তবে নিহত জোবায়েদের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমরা ঢাকায় পরিবারসহ থাকি। ঘটনার দিন দুপুরে আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা যায়। পরে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ভৈরবে এনে দাফন করি। আমার ছেলে নিহতের ঘটনায় মনির হোসেন মামলা করেছেন, তাকে আমি চিনি না। তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। ভৈরবের কোনো লোক আমার ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করেনি। তিনি বলেন, পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলে আমরা সত্য কথাটি বলব। আমেরিকা প্রবাসী মিনা ইসলাম মোবাইলে বলেন, আমি গত কয়েক বছর যাবত আমেরিকায় আছি। মামলায় আমাকে মিথ্যা আসামি করেছে শুনেছি। সাংবাদিক মাছুম ও অপু বলেন, নিহত জোবায়েদের পরিচয় আমরা জানি না, তাকে চিনি না। তার পরিবারের সদস্যরা বলেছে জোবায়েদ ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। অথচ মনির হোসেন নামের এক যুবক মামলায় আমাদের তিনজন সাংবাদিককেও আসামি করেছেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স